সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে আরও ২৪১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি দেশে করোনায় শনাক্ত নামল ছয় শতাংশের নিচে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুদকের প্রতি আহ্বান শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারালো আফগানিস্তান ‘স্কুল-কলেজে সংক্রমণের আশংকা নেই’ বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বিএনপি- কাদের ফিনল্যান্ড থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী যে দেশে বেকারত্বের রেকর্ড সর্বনিম্ন ফখরুলসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ২১ নভেম্বর নির্দিষ্ট গোষ্ঠী আমাদের হুমকি দিয়েছিল: ডেভিড হোয়াইট তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রাণ : তথ্যমন্ত্রী সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায় : মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ চাইলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ রাসেল দম্পতির বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আশায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রুডো বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৪৭ লাখ ছাড়ালো অতিরিক্ত কাজে বছরে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়: গবেষণা জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন শাফিন আহমেদ সৌদি প্রবেশে বাংলাদেশের ১৩৭ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবি প্রথমবার মহাকাশ ঘুরে এলেন চার সাধারণ নভোচারী

আফগানিস্তানের সম্ভাব্য শাসক কে এই মোল্লা বারাদার?

আফগানিস্তানের সম্ভাব্য শাসক কে এই মোল্লা বারাদার?
মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার

অনেকটা বিনা বাধায় গত রবিবার (১৫ আগস্ট) কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর তিনদিনের মধ্যেই আফগানিস্তানে ফিরেছেন সংগঠনটির রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার। মঙ্গলবার কাতারের দোহা থেকে একটি বিশেষ বিমানে তিনি কান্দাহারে নামেন। সংগে আরও কয়েক জন সিনিয়র তালেবান নেতাকে নিয়ে এসেছেন তিনি।

২০০১ সালে মার্কিন হামলার মুখে মোল্লা বারাদার তালেবানের অন্য নেতাদের সংগে প্রথমে কাবুল এবং পরে আফগানিস্তান ত্যাগ করেন। দেশ ছেড়ে তিনি পাকিস্তানে পালিয়েছিলেন। পরে আট বছর পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। দীর্ঘ ২০ বছরের নির্বাসিত জীবন এবং কারাবাসের পর বিজয়ীর বেশে দেশে ফিরেছেন তিনি।

কাবুলের দখল নেওয়ার পর নতুন সরকার গঠনে তোড়জোড় শুরু করেছে তালেবান। মোল্লা বারাদারের আফগানিস্তানে ফেরা ইঙ্গিত করছে, নতুন সরকারের ঘোষণা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।

হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদে তালেবানের আমির বা শীর্ষ নেতা। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে ধরণর ইঙ্গিত মিলছে তাতে কাবুলে আসন্ন সরকারের প্রধান হতে চলেছেন তাঁর ডেপুটি মোল্লা বারাদার।

রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রবিবার দোহায় বসে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে তালেবানের সাদা পতাকা সামনে নিয়ে যুদ্ধ জয়ের ঘোষণা দেন মোল্লা বারাদারা। বিজয়ের এই ঘোষণা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদের কাছ থেকে আসেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এবং আফগান রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. আসিম ইউসুফজাই বিবিসি বাংলাকে বলেন, আফগানিস্তানে তালেবানের সরকারই আসছে এবং বারাদারই যে তাদের ইসলামী আমিরাতের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন, এ নিয়ে আমার খুব একটা সন্দেহ নেই।

তিনি মনে করেন, তালেবানের মধ্যে মোল্লা বারাদারই এখন বিশ্বের কাছে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য। তালেবানের বিভিন্ন অংশের সংগেও তাঁর সম্পর্ক ভালো এবং বোঝাপড়া করে জটিলতার মীমাংসা করার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।

তালেবানের আমির হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদে ছাড়াও সংগঠনটির নেতৃত্বে আরও অন্তত দু’জন অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন। তারা হলেন– সিরাজউদ্দিন হাক্কানী এবং তালেবানের মূল প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লাহ ইয়াকুব। যাদেরও ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে খবর বেরিয়েছে। তবে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ডনে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়, হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদেকে ২০১৬ সালে তালেবানের আমির নিয়োগ দেয়া হলেও তার ভূমিকা এবং ভাবমূর্তি এখনও একজন মৃদুভাষী ধর্মীয় নেতার। ওই নিবন্ধে আরও বলা হয়, ঈদ বা রোজার আগে বিবৃতি প্রকাশ ছাড়া তাঁর কাছে থেকে তেমন কিছু শোনাও যায় না। তালেবানের সামরিক বিষয়ের সংগেও তাঁর সম্পর্ক খুবই কম বলে ওই নিবন্ধে বলা হয়।

ড. ইউসুফজাই এর মতে, তালেবান ইসলামী আমিরাত প্রতিষ্ঠা করবে। সেই আমিরাতের ‘সেরিমোনিয়াল চিফ (পোশাকি প্রধান) হবেন আখুন্দজাদে।

তিনি বলেন, কিছুটা ইরানের ধাঁচে সরকারের কাঠামো হতে পারে, যদিও ক্ষমতা থাকবে প্রেসিডেন্টের হাতে।

মোল্লা বারাদার ক্ষমতায় গেলে কেমন শাসক হবেন?
মোল্লা বারাদার কেমন মানুষ এবং তিনি ক্ষমতা পেলে কীভাবে আফগানিস্তান শাসন করবেন সেটা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে।

ড. ইউসুফজাই মনে করেন, বারাদার কঠোর হাতে আফগানিস্তান শাসন করবেন। তিনি বলেন, খুব শক্ত মনের মানুষ বারাদার। খুবই শক্ত নেতা। দীর্ঘ আট বছর পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। কিন্তু তাতে একটুও ভেঙে পড়েননি।

তরুণ বয়স থেকেই যুদ্ধ করছেন মোল্লা বারাদার। প্রথমে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে, তারপর আফগানিস্তানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া গৃহযুদ্ধে অন্য প্রতিপক্ষগুলোর বিরুদ্ধে এবং সবশেষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

মার্কিন হামলার মুখে পাকিস্তানে চলে গেলেও আমেরিকানদের ভয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। সেখানে আট বছর কারাভোগও করেছেন তিনি। ফলে, আপাতদৃষ্টিতে যে মানুষটি এখন ঠাণ্ডা মাথার একজন কূটনীতিক, যিনি দোহায় বসে বিভিন্ন দেশের সরকারের সংগে আপোষ মীমাংসা করছেন, বিদেশ সফর করছেন- তার আড়ালে রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ে পোড় খাওয়া শক্ত একজন যোদ্ধা। তালেবানের ভাষায় যাকে বলা হয় মুজাহিদীন।

কে এই মোল্লা বারাদার?
আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের নথি অনুযায়ী, মোল্লা বারাদারের জন্ম আফগানিস্তানের উরুযগান প্রদেশের উইটমাক নামে একটি গ্রামে। তবে তিনি বড় হন আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহারে। সেখানেই একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। জাতিগত পশতুন বারাদার ১৯৭০ ও ৮০’র দশকে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্যদের তাড়াতে ১০ বছর যুদ্ধ করেন। এরপর আফগান গৃহযুদ্ধ চলার সময় মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের নেতৃত্বে ১৯৯৪ সালে যে কয়েকজন পশতুন মুজাহিদীন তালেবান প্রতিষ্ঠা করেন, মোল্লা বারাদার ছিলেন তাঁদের অন্যতম। মোল্লা ওমরের ডান হাত ছিলেন তিনি। জানা যায়, তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কও ছিলো। মোল্লা ওমরের বোনকে বিয়ে করেন বারাদার।

১৯৯৬ সালে যখন তালেবান কাবুল দখল করে, তখন সেই সরকারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন মোল্লা বারাদার। ২০০১ সালে আমেরিকার হামলায় তালেবান ক্ষমতা হারানোর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরে উপমন্ত্রী। মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার পর অন্য অনেক তালেবান নেতার সংগে তিনিও পালিয়ে যান পাকিস্তানে। পাকিস্তান সেনা গোয়েন্দাদের আশ্রয়ের ভরসা থাকলেও আমেরিকানদের হাতে ধরা পড়া বা ড্রোন হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে তাঁকে। আমেরিকানরা যে ক’জন তালেবান এবং আল-কায়েদা নেতাকে ধরার তালিকা করেছিলো, সেখানে মোল্লা বারাদারও ছিলেন।

পাকিস্তানে কারাবাস
২০১০ সালে করাচি থেকে পাকিস্তানের পুলিশ মোল্লা বারাদারকে আটক করে। সে সময় পত্র-পত্রিকায় যে ছবি ছাপা হয়েছিলো, তাদে দেখা যায় তাকে লোহার চেন দিয়ে হাত বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক মিডিয়ায় তখন বিশ্লেষকরা লিখেছিলেন, আমেরিকার সংগে সম্পর্ক ভালো করার আশায় মোল্লা বারাদারকে ধরেছে পাকিস্তান। কারণ, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তালেবান এবং আল-কায়েদাকে আশ্রয় দিচ্ছে এই অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করেছিলো। তখন এমন সব খবরও বের হয়েছিলো যে, মোল্লা বারাদার আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা হিসাবে কাবুলে তখনকার প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সংগে গোপনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন, যা আইএসআই জেনে গিয়েছিলো।

পাকিস্তান তাঁকে আটক করলেও আমেরিকানদের হাতে তুলে দেয়নি।

কারামুক্তির পর করাচী থেকে দোহায় মোল্লা বারাদার
সন্ত্রাসের মামলায় আট বছর পাকিস্তানের কারাগারে থাকার পর ২০১৮ সালের অক্টোবরে মোল্লা বারাদার মুক্তি পান। তখন খবর বেরিয়েছিলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মুক্তি চেয়েছিলেন, কারণ আমেরিকা আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ করার জন্য তালেবানের সংগে মীমাংসায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই লক্ষ্যে ওই সংগঠনের একজন প্রভাবশালী নেতার খোঁজ করছিলেন তিনি। এই খবর সত্য প্রমাণিত হয় যখন মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন পরই মোল্লা বারাদার দোহায় গিয়ে তালেবানের রাজনৈতিক অফিসের দায়িত্ব নেন।

তালেবানের সংগে আপোষের জন্য আমেরিকানরা তাকেই কেন বেছে নিলো তা পরিস্কার নয়। তবে সে সময় নিউইয়র্ক টাইমস সংবাদপত্রে মোল্লা বারাদারের সাংগঠনিক দক্ষতা, স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্ব এবং তালেবানের তৃণমূলে তার প্রভাব নিয়ে একটি রিপোর্ট ছাপা হয়। ওই রিপোর্টে বলা হয়, ২০০৯ সালে মোল্লা বারাদার সাধারণ মানুষের মন জয় করার উপায় নিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন, যেটি তৃণমূলে তালেবানের যোদ্ধাদের হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিলো।

লন্ডনের দৈনিক সংবাদপত্র গার্ডিয়ানে তালেবানকে নিয়ে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে সাংবাদিক জুলিয়ান বোর্গার লিখেছেন, পশ্চিমা কূটনীতিকরা দেখেছিলেন যে তালেবান শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মোল্লা বারাদারই পাকিস্তান সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র কথা সবসময় শুনতে চাইতেন না এবং তিনি অতীতে কাবুলের প্রশাসনের সংগে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছেন।

২০১৯ সালে দোহায় গিয়ে তালেবানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন মোল্লা বারাদার। পরের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার সংগে চুক্তিতে তালেবানের পক্ষে তিনিই সই করেন।

গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তালেবানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মোল্লা বারাদারকেই বিশ্বের লোকজন দেখেছেন। ড. ইউসুফজাই বলেন, বারাদার তালেবানের এক নম্বর নেতা নন, কিন্তু বিশ্বের কাছে তিনিই এখন তালেবানের মুখ হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছেন। তিনি ভালো ইংরেজি জানেন। বিশ্বের নেতাদের সংগে কথা বলছেন। বিদেশ সফরে গিয়ে তাঁদের ভরসা দিচ্ছেন, স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। তাছাড়া পাকিস্তানের সংগেও তাঁর সম্পর্ক ভালো, চীনের সংগেও সম্পর্ক তৈরি করেছেন।

এক সময় পাকিস্তান তাকে জেলে পুরলেও ২০২০ সালে আমেরিকার সংগে চুক্তির আগে মোল্লা বারাদার ইসলামাবাদ গিয়ে পাকিস্তানি নেতাদের সংগে কথা বলে আসেন, যা নিয়ে তখন বিতর্ক তৈরি হয়েছিলো।

ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রশ্নে কতটা নমনীয় হবেন বারাদার?

আমেরিকার সংগে দোহায় যে চুক্তি হয়েছিলো, তাতে বিভিন্ন পক্ষের সংগে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তালেবান। কাবুল দখলের পর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার চাপ তৈরি হয়েছে তাঁদের ওপর। এমনকি তালেবানের সবচেয়ে বড় সমর্থক পাকিস্তানও সতর্ক করছে যে তারাও কাবুলে বিভিন্ন আফগান পক্ষের সমন্বয়ে একটি সরকার দেখতে চায়। সোমবার আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু তাজিক, উজবেক এবং হাজারা সম্প্রদায়ের নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে গিয়ে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে কথা বলেছেন। পরে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিশেষ দূত মোহাম্মদ সাদিক সাংবাদিকদের বলেন, আগের বারের মত (১৯৯৬ সালের মত) পাকিস্তান তালেবানকে একতরফা স্বীকৃতি দেবে না।

রাশিয়াও বলেছে, আফগানিস্তানের শাসক হিসাবে তালেবানকে স্বীকৃতি দিতে তারা তাড়াহুড়ো করবে না। অর্থাৎ যেসব প্রতিবেশী দেশের স্বীকৃতি তালেবানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তারাও চাইছে তালেবানকে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে হবে।

কিন্তু মোল্লা বারাদার এসবে কতটা কান দেবেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ড. ইউসুফজাই মনে করেন, কাবুলে যে সরকার হবে তা মূলত তালেবানের সরকারই হবে। তিনি বলেন, এই সরকারে থাকবে তালেবান এবং তাদের কড়া সমর্থকরা। তালেবানের সংগে সরাসরি যুক্ত না হলেও তাদের নীতি-আদর্শ যারা সমর্থন করে, বড়জোর তারা সরকারে জায়গা পেতে পারেন।

তিনি বলেন. তালেবান সবসময় আনুগত্যকে পুরস্কৃত করে। যারা ২০ বছর ধরে তাদের হয়ে যুদ্ধ করেছে, কারাভোগ করেছে, তারাই প্রধান পদগুলো পাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই অধ্যাপক আরও মনে করেন, তালেবানের বন্ধু প্রয়োজন কিন্তু বন্ধুত্বের জন্য বড় ধরণের কোনও আপোষ তারা করবে না।

কট্টর ইসলামী অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়ার নীতি থেকে তালেবান কতটা সরেছে, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। এসব বিষয়ে সন্দেহ দূর করতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

করোনার সর্বশেষ খবর

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১,৫৪২,৬৮৩
সুস্থ
১,৫০১,৫৪১
মৃত্যু
২৭,২২৫
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
২২৭,৮৬৫,৮৭৪
সুস্থ
মৃত্যু
৪,৬৮২,৯০৮
%d bloggers like this: