সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:১৭ অপরাহ্ন

করোনার প্রভাব: ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা

করোনার প্রভাব: ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা

কৃষকরা যদি ক্ষুধার্ত হয় তাহলে তারা আজ আগামী দিনের জন্য বীজ না কিনে ক্ষুধা মেটাতে খাবার কিনবে; যা আগামীতে খাদ্য সংকট তৈরি করবে। কৃষিপণ্য উৎপাদনকারীদের ঘরে খাদ্যের স্বল্পতা থাকলে তা খাদ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খাদ্যের স্বাভাবিক প্রাপ্যতাকে ঝুঁকিতে ফেলবে বলে গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের বক্তব্য, পচনশীল ও পুষ্টিকর খাবার উৎপাদনকারীরা বেশি মাত্রায় ক্ষতির মুখে পড়েছে। কারণ, তাদের ক্রেতা কমে গেছে এবং ক্রেতাদের কেনার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। তাই উৎপাদন কমতির কারণে মোটের ওপর খাদ্য সংকট দেখা না দিলেও বিঘ্নিত সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে তা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে সার, বীজ সরবরাহ ও পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাব আগামী মৌসুমের ফলনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, খাদ্যের উৎপাদনেও ব্যাঘাত ঘটছে, মানুষের আয় ও প্রবাসী স্বজনদের পাঠানো অর্থের পরিমাণও কমে আসছে; যা অনেক দেশেই খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে বলেও জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্বের অনেক দেশ এরইমধ্যে খাদ্যে মূল্যস্ফীতির বিভিন্ন স্তর দেখে ফেলেছে এবং করোনার প্রভাবকে সামনে রেখে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতেও শুরু করেছে।

এর আগে গত জুলাইয়ে প্রায় আড়াই হাজার কৃষকের (২৪০০) ওপর চালানো কৃষি বাণিজ্য ভিত্তিক সংস্থা ওলামের এক জরিপে দেখা যায়, কোকো, কফি, তিল, তুলা এবং অন্যান্য ফসল উৎপাদনকারী আফ্রিকা ও ইন্দোনেশিয়ার অর্ধেকেরও বেশি কৃষক মৌলিক খাবারের স্বল্পতা ও পুষ্টির অভাবে পড়েছে। এর কারণ হিসেবে একদিকে করোনার সংক্রমণ রোধে চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা ও অন্যদিকে ঘরে পর্যাপ্ত খাবারের মজুদ না থাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ওই জরিপে অংশ নেয়া ৭০ ভাগ কৃষক জানিয়েছে, আগের চার মাস ধরে তাদের আয় কমায় তাদের খাবার কেনার সক্ষমতা অনেকখানি কমেছে।

এদিকে, করোনা মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী বাড়ছে খাদ্যদ্রব্যের দাম। আর এই দাম বৃদ্ধির প্রবণতাও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি তৈরি করেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চীনের পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, গত বছরের আগস্টের তুলনায় গত মাসে দেশটিতে খাদ্যদ্রব্যের দাম ১১.২ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শুয়োরের মাংসের দাম। এক বছর আগে যে দামে শুয়োরের মাংস বিক্রি হয়েছে গত আগস্টে তারচেয়ে ৫২.৬ শতাংশ দাম বেড়ে বিক্রি হয়েছে দেশটির অধিক জনপ্রিয় এই প্রাণীর মাংস। উত্তাপ ও বৃষ্টিপাতও দেশটিতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কাজ করেছে। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে শাক-সবজির দাম বেড়েছে ৬.৪ শতাংশ, ডিমের দাম বেড়েছে ১১.৩ শতাংশ।

আর গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে, গত মাসে (আগস্ট) খাদ্যের দাম গত ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চে পৌঁছায়। এর আগের দুই মাস মিলে টানা তিন মাস খাদ্যদ্রব্যের দাম উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখায়। খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সংস্থাটি, করোনার কারণে চাহিদার সংকোচন ও ডলারের পতনকে চিহ্নিত করেছে।

অবশ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে মাঠ পর্যায়ে বিঘ্ন ও উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ বাধার মুখে পড়লেও বিশ্বে এখনও বড় ধরনের কোন খাদ্যের অভাব দেখা যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

.

করোনার সর্বশেষ খবর

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৩৫৯,১৪৮
সুস্থ
২৭০,৪৯১
মৃত্যু
৫,১৬১
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৩২,৮৩৪,৩৯১
সুস্থ
২২,৭১১,২১৩
মৃত্যু
৯৯৪,০৭৮