রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
টিকা চেয়েছি, সবাই বলে দেবে, কিন্তু হাতে আসছে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় মৃত্যু ৪০, নতুন আক্রান্ত ২,৫৭৬ জন ৫০ কোটি ডোজ ফাইজারের টিকা সহায়তার ঘোষণা বাইডেনের নুসরাতের আত্মহত্যার চেষ্টা! বরিসকে অবশ্যই আইনের শাসন মানতে হবে: ইইউ রাজশাহী সিটিতে শুক্রবার বিকেল থেকে লকডাউন রাষ্ট্রপতির সাথে বিদায়ী বিমান বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন রেলমন্ত্রী যে ২০৪ ইউপিতে ২১ জুন ভোট ঢাকা-সিলেট-কুমিল্লার তিন আসনে ১৪ জুলাই ভোট হচ্ছে না ১৬৩ ইউপি, ৯ পৌরসভার ভোট স্থগিত সরকার পতনের হুমকি দিতে দিতে বিএনপির অস্তিত্বই হুমকিতে: তথ্যমন্ত্রী মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী নতুন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আগামীকাল মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-হত্যা করে কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী তিন আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ৯৪ জন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহবান ফখরুলের ‘অদৃশ্য শত্রু করোনা, দৃশ্যমান শত্রু বিএনপি’

চলে গেলেন ভাস্কর মৃণাল হক

চলে গেলেন ভাস্কর মৃণাল হক

ভাস্কর মৃণাল হক মারা গেছেন। শনিবার রাত ২টায় গুলশানে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।

পুরো রাজধানীজুড়ে রয়েছে তার নির্মাণ করা অসংখ্য ভাস্কর্য। মতিঝিলের বক ভাস্কর্য ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ‘রত্নদ্বীপ’, হোটেল শেরাটনের সামনে ‘রাজসিক’, পরীবাগ মোড়ে ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা’, ইস্কাটনে ‘কোতোয়াল’ শিল্পকর্মের নির্মাতা তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রিক দেবী থেমিসের অনুকরণে ভাস্কর্য স্থাপন করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ঢাকার রাজসিক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্ডেন জুবিলী টাওয়ার ভাস্কর্যের জন্য সর্বাধিক পরিচিত তিনি।

মৃণাল হক একজন আলোচিত ভাস্কর। নানা ভাস্কর্যের কারণে তিনি হয়েছেন আলোচিত, হয়েছেন সমালোচিত। তবে সব কিছু ছাপিয়ে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন নামকরা ভাস্কর। দেশে বিদেশে আছে তার অনেক শিল্পকর্ম যা তাকে অমর করে রাখবে ইতিহাসের পাতায়।

মৃণাল হক ১৯৫৮ সালে ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটে ভর্তি হয়ে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে ১৯৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি টানেন। তারপরেই তিনি তার স্বপ্নের কর্ম জীবনে প্রবেশ করেন।

১৯৯৫ সালে মৃণাল আমেরিকাতে পাড়ি জমান এবং সেখানে তার প্রথম কাজ শুরু করেন। নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের দুতাবাসে তার প্রথম প্রদর্শনী হয়। তিনি নিউ ইয়ার্কে এত বেশি কাজ করেন যে, সরকারি টিভি চ্যানেলে তার একটি সাক্ষাৎকার ২৬ বার এবং সিএনএন চ্যানেলে ১৮ বার প্রচারিত হয়।

আমেরিকায় সব হিসাব নিকাশ ঘুঁচিয়ে দেশের জন্য কিছু করার প্রত্যয়ে ২০০২ সালে ফিরে আসেন তিনি। তখন থেকে তিনি স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। ঐ বছরেই তিনি নিজ উদ্যোগে নির্মাণ করেন মতিঝিলের বক ভাষ্কর্যটি।

২০০৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ছুটে যান প্রাণের শহর রাজশাহী। নির্মাণ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্ডেন জুবিলী টাওয়ার। তার ভাস্কর্যের মধ্য ঢাকার রাজসিক বহুল পরিচিত।

এছাড়াও তিনি রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ‘রত্নদ্বীপ’, হোটেল শেরাটনের সামনে ‘রাজসিক’, পরীবাগ মোড়ে ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা’, ইস্কাটনে ‘কোতোয়াল’, সাতরাস্তায় ‘ময়ূর’, মতিঝিলের ‘বক’, এয়ারপোর্ট গোল চত্বরের ভাস্কর্য, নৌ সদর দপ্তরের সামনে ‘অতলান্তিকে বসতি’, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের ভাস্কর্য, বঙ্গবাজারে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন শিল্পকর্মের নির্মাতা।

শিল্পকর্ম নিয়ে নানামুখী বিতর্কও ঘিরে আছে তার নিয়ে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রিক দেবী থেমিসের অনুকরণে ভাস্কর্য স্থাপন করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ভাস্কর মৃণাল হক।

শিল্প সমালোচকরা এমনও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ‘রত্নদ্বীপ’ নামে ২০০৮ সালে নির্মিত মৃণাল হকের যে ভাস্কর্যটি রয়েছে তাতে যে ঝিনুকটি দেখা যায়, তা আমাদের দেশিয় কোনও প্রজাতির ঝিনুক নয়।

রাজধানীতে রূপসী বাংলা হোটেলের (শেরাটন) সামনে স্থাপিত মৃণাল হকের সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্যের নাম ‘রাজসিক’। এ ভাস্কর্যটিতে দু’টি ঘোড়া একটা গাড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কোচোয়ান বসে আছেন সামনে, গাড়ির পেছনে একজন প্রহরী। গাড়িতে আছেন নবাব সলিমুল্লাহ, যিনি সপরিবারে নগরীর হালচাল দেখতে বের হয়েছেন। অনেকে বলেছেন, ভেতরে যে নবাব বসে আছেন, সেটি মোটেও দৃশ্যমান নয়।

পরীবাগ মোড়ে হাতের বামে নজরে পড়বে খুব সম্প্রতি একুশ নিয়ে মৃণালের স্থাপিত ভাস্কর্য ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা’। এতে দেখা যায়, মায়ের কোলে শহীদ সন্তান। কিন্তু মায়ের মুখের অভিব্যক্তিতে কান্না নাকি ক্ষোভ জমে আছে, তা বোঝা যায় না। বরং মনোযোগ না দিয়ে দেখলে হুট করে মনে হতে পারে শহীদমাতার মুখে এক চিলতে হাসি।

সমালোচনার বিপক্ষে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন জীবতদশায়। তিনি বলেছিলেন, ‘আমিতো এদেশের মানুষকে ভাস্কর্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি। অনেকে আমাকে দেখতে পারেন না। কিন্তু বিনা পয়সায় কাজ করার এই প্রতিদান? আমি নিজ খরচে অনেক ভাস্কর্য করে দিয়েছি, যাতে মানুষ ভাস্কর্য বিষয়টা বুঝতে শেখে।

সবকিছুর ঊর্ধ্বে তিনি একজন শিল্পমনা মানুষ। চেষ্টা করেছেন ভাস্কর্য শিল্পের সাথে বাংলাদেশের আথিয়তা করিয়ে দিতে। নতুন কোন শিল্পকর্ম তৈরি করতে নিজের পকেটের টাকা খরচ করতে হবে না, সমালোচকরা আর পারবে না তার নতুন কর্ম নিয়ে নানা প্রশ্নে জর্জড়িত করতে।

২২ আগস্ট ২০২০ ফিরে গেলে না ফেরার দেশে। ৬২ বছর বয়সেই মনের কোনে লোকানো তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বার্ধক্যজনিত রোগে বিদায় জানালেন এই বাংলাদেশকে এই পৃথিবীকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

করোনার সর্বশেষ খবর

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৮১৫,২৮২
সুস্থ
৭৫৫,৩০২
মৃত্যু
১২,৯১৩
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৭৫,১৪০,২৩৮
সুস্থ
১১৩,৩১৩,৪৩৫
মৃত্যু
৩,৭৮৪,৯২৭
%d bloggers like this: