মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

চাহিদার চেয়ে মজুত বেশি, তারপরও পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশী

চাহিদার চেয়ে মজুত বেশি, তারপরও পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশী

কথা ছিলো কোন কারণে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করতে হলে আগেই বাংলাদেশকে জানাবে ভারত। দুদেশের মধ্যে বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিবেচনায় গত বছর এমন একটি অলিখিত সমঝোতা হয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে। কিন্তু কথা রাখেনি ভারত।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আকস্মিক পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ। অলিখিত এ সমঝোতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে ভারতের হাতে এর মধ্যে দুইটি চিঠি দেয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। অনুরোধ জানানো হয়েছে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের।

দেশে পেঁয়াজের বাজারে সরবরাহ সংকটের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই মিসর, চীন, তুরস্ক, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে দেন দেশের ব্যবসায়িরা।

এ জন্য সরকারের কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংগনিরোধ বা কোয়ারেন্টিন দপ্তর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত ৯ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) সনদ নিয়েছেন তাঁরা। আর ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরদিন গতকাল মঙ্গলবার এক দিনেই আরো ১০ হাজার ৭৪২ টন আমদানির অনুমতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসছে মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে। আর সব পেঁয়াজের চালান দেশে আসবে সমুদ্রপথে।

তবে অন্য দেশ থেকে জোরশোরে পেঁয়াজ আমদানির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে, ভারত হঠাৎ করে যদি আবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। তাই অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি উৎসাহিত করতে ভারত থেকে আমদানি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখার নিশ্চয়তা চান ব্যবসায়ীরা।

দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজ এক রাতেই বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা। পাইকারি খুচরা সব জায়গায় পেঁয়াজের দাম উর্ধ্বমুখি।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সকাল থেকে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা পর্যন্ত। মান ভেদে ছুঁয়েছে ৯০ টাকাও। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়ায় দিনের ব্যবধানে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। একই সাথে ক্রেতাদের আছে হুজুগে পেঁয়াজ মজুদের প্রবণতাও।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারেও একই চিত্র। পেঁয়াজের অন্যতম বড় পাইকারি আড়ৎ শ্যামবাজারে কেজিতে ১০-১২ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়ার খবরে বিক্রি কমিয়েছে দিয়েছেন আড়তদাররা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ৩৩ লাখ টন। গেল মৌসুমে উৎপাদন ২৫ লাখ ৫৭ হাজার আর আমদানি হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টন। এছাড়া, বিভিন্ন দেশ থেকে আরো ১ লাখ ২০ হাজার টন আমদানি ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ফলে চাহিদার চেয়ে যোগান সোয়া লাখ টন বেশি।

কৃত্রিম সংকটের জন্য ভোক্তাদের মজুতদারিকে দায়ী করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, আগামী মওসুম থেকে চাহিদার পুরোটাই উৎপাদনের পরিকল্পনা সরকারের। তাই আলু ও বোরোর আবাদী জমি কমিয়ে সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।

দেশে গেল মৌসুমে ২ লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে।

এদিকে, বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে মঠে নেমেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি মোবাইল কোর্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

করোনার সর্বশেষ খবর

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৪০০,২৫১
সুস্থ
৩১৬,৬০০
মৃত্যু
৫,৮১৮
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৪৩,৪৭৭,০০৫
সুস্থ
২৯,১৯২,৭৩৯
মৃত্যু
১,১৫৯,৩১৯
%d bloggers like this: