বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

‘ঢাবি’র সহকারী রেজিস্ট্রার শারমিন জাহানের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নকল মাস্ক সরবরাহের দায়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার শারমিন জাহানের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি ফোনে জানান, ‘কাগজপত্রগুলো আসুক আগে। আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মাননীয় উপাচার্যকে অনুরোধ করেছি যে, মামলার কপিটা, কোন শারমিন জাহান, এগুলো যথাযথভাবে দেখে যদি কারও অসৎ বা নীতিবিরোধী কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কল এন নাইনটি ফাইভ মাস্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযোগ ওঠা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শারমিন জাহান, পুরো ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে এন নাইনটি ফাইভ-এর চারটি চালানে প্রায় ৯০ লাখ টাকার মাস্ক সরবরাহ করে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটি চীনের থ্রি এম কোম্পানির লোগো বসিয়ে যেসব মাস্ক সরবরাহ করেছে, সেখানে নকল মাস্ক পাওয়া গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার শারমিন জাহান। বর্তমানে তিনি শিক্ষা ছুটিতে আছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। সবশেষ তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতেও ছিলেন। এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির নোটিশের জবাবও দিয়েছে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া নকল মাস্কের কথা স্বীকার করে জানান জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তারা চুক্তিভঙ্গ করে যারা ডিউটি করছে তাদের লাইফ রিস্কে ফেলেছে। এটা আমাদের জন্য খুবই সিরিয়াস ব্যাপার। আমরা গতকাল থানায় কেস করেছি যারা এই সকল মাস্ক সরবরাহ করেছে তাদের বিরুদ্ধে।’

অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্তাধিকারী শারমিন জাহান দাবি করেন, জেনেশুনে কোনো নকল মাস্ক হাসপাতালে সরবরাহ করেননি তিনি। শারমিন বলেন, ‘মাস্ক রিসিভ করেছে তারা ১২ তারিখে। ১৮ তারিখে তারা আমাকে জানিয়েছে এটাতে প্রবলেম হয়েছে। তারা আমাকে এটা আবার রিটার্নও দিয়ে দিয়েছে। একটা প্রোডাক্ট রিসিভ করার পর কি হয় সেটাতো বলা যায়না, অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমিতো ম্যানুফ্যাকচারার না, আমি তো শুধু ট্রেডিং করি। আমি তো নকল প্রোডাক্ট দেইনি।’

অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল থেকে প্রথম দুই লটে দেয়া মাস্কে কোনো সমস্যা ছিলো না। তবে গত ১৮ই জুলাই তৃতীয় লটে দেয়া মাস্ক ব্যবহার শুরু হলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, মাস্ক নকল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাস্ক ফেরত দেয়। নকল মাস্কগুলোর গায়ে ইংরেজি বানানও ভুল ছিলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

করোনার সর্বশেষ খবর

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৫২৯,৬৮৭
সুস্থ
৪৭৪,৪৭২
মৃত্যু
৭,৯৫০
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৯৫,৪২৯,৬৬০
সুস্থ
৫২,৩৮৫,৩৬৪
মৃত্যু
২,০৩৮,৮০৯
%d bloggers like this: