বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:২০ অপরাহ্ন

দেশের ৭০০ অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করবে পরিবেশ অধিদফতর

দেশের ৭০০ অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করবে পরিবেশ অধিদফতর

পরিবেশ অধিদফতর (ডিওই) বায়ুু দূষণ রোধে সারাদেশে প্রায় ৭ শ’টি অবৈধ ইটভাটা ধ্বংস করবে। ইটভাটা দেশের বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস।
‘যেহেতু এই শুষ্ক মৌসুমে বায়ু দূষণ বেড়ে গেছে, আমরা বায়ু দূষণ রোধে দেশজুড়ে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,’ পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মো জিয়াউল হক বলেন।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের আশেপাশে অবস্থিত ৩০ টি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে ফেলা হয়েছে। শহরটির চারপাশ থেকে অবৈধ ৪০০ ইটভাটা অপসারণ করা হবে।
জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা দেশব্যাপী অবৈধ ইটভাটা ভাঙ্গার জন্য আগামী দুই বা তিন মাস ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে যাব এবং চলমান অভিযানে প্রায় ৭০০ ইটভাটা ভেঙে ফেলতে পারব বলে আশা করছি।’
পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, সারাদেশে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ইটভাটা রয়েছে এবং এর মধ্যে অনেকগুলোই অবৈধভাবে চলছে এবং বায়ু ও পরিবেশকে দূষিত করেছে।
গত বছর প্রায় ৫০০ টি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে ফেলা হয়েছিল এবং পরিবেশ অধিদফতর এ বছর এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০০ অবৈধ ইটভাটা ভেঙে ফেলছে বলে জানিয়েছেন অধিদফতরের বায়ুুমান পর্যবেক্ষণ শাখার একজন উপ-পরিচালক।
তিনি বলেন, দেশের বায়ুু দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদফতর অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রতিদিন দু’ থেকে তিনটি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করছে।
করোনাভাইরাস মহামারীজনিত কারণে লকডাউন চলাকালে দেশে বায়ুর গুণগত মানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। তবে, শুকনো মৌসুম শুরুর সাথে সাথে দেশের প্রধান শহরগুলোর বায়ুুর মান আবার খারাপ হতে শুরু করে।
দেশের আটটি বড় শহরে স্থাপিত বিভিন্ন ধারাবাহিক বায়ুু পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (সিএএমএস) থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় শুকনো মৌসুমে এই শহরগুলোতে বায়ু অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর থাকে।
পরিবেশ অধিদফতরের গত ৭ জানয়ারির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পিএম ২.৫ ঘনত্বের ২৪ ঘন্টার হার রাজশাহীতে ছিল ৩৩৮ মাক্রোগ্রাম প্রতি কিউবিক মিটার, ঢাকায় ৩৭৬ মাক্রোগ্রাম, গাজীপুরে ৩৫৩ মাক্রোগ্রাম, নারায়ণগঞ্জে ৩৮০ মাক্রোগ্রাম, সিলেটে ১৮৯ মাক্রোগ্রাম, চট্রগ্রামে ১৭৩ মাক্রোগ্রাম, বরিশালে ৩১৭ মাক্রোগ্রাম, খুলনায় ৩২৬ মাক্রোগ্রাম, ময়মনসিংহে ৩২৪ মাক্রোগ্রাম এবং রংপুরে ৩৭৫ মাক্রোগ্রাম প্রতি কিউবিক মিটার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বায়ুুমান নির্দেশনা অনুসারে, পিএম ২.৫ এর গ্রহনযোগ্য স্তরটি হচ্চে বার্ষিক ১০ মাক্রোগ্রাম প্রতি কিউবিক মিটার এবং একদিনের (২৪ ঘন্টা) ২৫ মাক্রোগ্রাম প্রতি কিউবিক মিটার। পিএম ২.৫ হল বায়ুর অতি সূক্ষ কণা যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের বিশ্ব বায়ুমান প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বাতাসের গুণগত মান বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল। তবে, বিভন্ন দেশের রাজধানীগুলোর মধ্যে ঢাকা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।
জিয়াউল হক বলেন, অনিয়ন্ত্রিত বায়ুু দূষণের পরিণতি বিবেচনা করে সরকার বায়ুু দূষণ রোধে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
তিনি বলেন, বায়ুু দূষণের উৎস চিহ্নিত করে, এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের কাছে একটি ২২দফা নির্দেশনা প্রেরণ করা হয়েছে। সংস্থাগুলোকে এই নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে এবং বায়ু দূষণ কমাতে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।
অধিদফতরের পরিচালক বলেন, বায়ুুদূষণ রোধে সরকার ১৯৯৭ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা সংশোধন করেছে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রকল্পে ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে।
‘নির্মাণ খাত বায়ুু দূষণের আরেকটি অন্যতম উৎস। দেশের চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ হবে এবং আমরা আশা করি তখন দেশে বায়ু মানের উন্নতি হবে,’ বলেন তিনি।-বাসস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

করোনার সর্বশেষ খবর

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৫২৯,৬৮৭
সুস্থ
৪৭৪,৪৭২
মৃত্যু
৭,৯৫০
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৯৬,১১৩,৫৬৯
সুস্থ
৫২,৭০৯,৫২৭
মৃত্যু
২,০৫৬,০৮৫
%d bloggers like this: