রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
টিকা চেয়েছি, সবাই বলে দেবে, কিন্তু হাতে আসছে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় মৃত্যু ৪০, নতুন আক্রান্ত ২,৫৭৬ জন ৫০ কোটি ডোজ ফাইজারের টিকা সহায়তার ঘোষণা বাইডেনের নুসরাতের আত্মহত্যার চেষ্টা! বরিসকে অবশ্যই আইনের শাসন মানতে হবে: ইইউ রাজশাহী সিটিতে শুক্রবার বিকেল থেকে লকডাউন রাষ্ট্রপতির সাথে বিদায়ী বিমান বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন রেলমন্ত্রী যে ২০৪ ইউপিতে ২১ জুন ভোট ঢাকা-সিলেট-কুমিল্লার তিন আসনে ১৪ জুলাই ভোট হচ্ছে না ১৬৩ ইউপি, ৯ পৌরসভার ভোট স্থগিত সরকার পতনের হুমকি দিতে দিতে বিএনপির অস্তিত্বই হুমকিতে: তথ্যমন্ত্রী মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী নতুন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আগামীকাল মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-হত্যা করে কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী তিন আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ৯৪ জন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহবান ফখরুলের ‘অদৃশ্য শত্রু করোনা, দৃশ্যমান শত্রু বিএনপি’

ব্ল্যাক ফাংগাস: বাংলাদেশে ‘ভয়ের কিছু নেই’ বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ব্ল্যাক ফাংগাস: বাংলাদেশে 'ভয়ের কিছু নেই' বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনা মহামারির মধ্যে নতুন আতঙ্কের নাম ব্ল্যাক ফাংগাস। ভারতে ইতিমধ্যে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এই ছত্রাকের সংক্রমণ। গত বৃহস্পতিবার (২৭ মে) একদিনে ১৫৩ জন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দিল্লিতে এই রোগকে মহামারী ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেও ব্ল্যাক ফাংগাসে সংক্রমিত রোগী ধরা পড়েছে। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে এই মুহূর্তে ব্ল্যাক ফাংগাস নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনার শক্তিশালী ভ্যারিয়েন্টের পাশাপাশি ব্ল্যাক ফাংগাসের তাণ্ডব চলছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, ব্ল্যাক ফাংগাস রোগের সংক্রমণ এতটাই খারাপ আকার ধারণ করেছে যে, দিল্লীর উপ-রাজ্যপাল অনিল বাইজাল সেখানে ‘মহামারী আইন ১৮৯৭’ জারি করেছেন। ব্ল্যাক ফাংগাসকে মহামারি রোগ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যার একদিন আগে দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানান, দিল্লীতে বর্তমানে ব্ল্যাক ফাংগাসে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ৬২০ জন। কেজরিওয়ালের ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার নতুন করে শনাক্ত ১৫৩ জন যোগ হলে মোট সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ৭৭৩ জনে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, দেশটিতে ব্ল্যাক ফাংগাসে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর মৃত্যু হওয়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও বৃহস্পতিবার চারজন ব্ল্যাক ফাংগাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে।

ভারতে ব্ল্যাক ফাংগাস সংক্রমণের পরিস্থিতি ভয়াবহ হলেও বাংলাদেশের এই ছত্রাক নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক। সম্প্রতি তিনি বলেন, ভারতের নতুন ভ্যারিয়েন্টের পাশাপাশি ব্ল্যাক ফাংগাসও দেশে চলে এসেছে। করোনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধের পাশাপাশি এখন ব্ল্যাক ফাংগাসও আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। তবে এই মুহূর্তে খুব বেশি ভয়ের কারণ নেই। কারণ এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি দেশে ছড়িয়ে পড়েনি।

মন্ত্রী বলেন, আগাম সতর্কতা হিসেবে দেশের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিকে ব্ল্যাক ফাংগাসের প্রতিষেধক ওষুধ উৎপাদন বাড়াতে বলা হয়েছে। একইসংগে এই রোগের উপযুক্ত চিকিৎসায় করণীয় কী হবে, সে ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, বাংলাদেশে ব্ল্যাক ফাংগাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে এই বিষয়ে সচেতনতা জরুরী।

জাতীয় বক্ষব্যধী ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের বক্ষব্যধী বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুস শাকুর খান বলেন, ব্ল্যাক ফাংগাস নিয়ে বাংলাদেশে ভয় পাওয়ার তেমন কিছুই দেখছি না। কারণ, এটির সংক্রমণ আমাদের দেশে খুবই কম। এটি আমাদের মধ্যে যতো প্রচার এবং প্রসার পাচ্ছে অতটা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু আমি দেখছি না।

তিনি বলেন, এটা কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। আমরা যদি, প্রতিরোধ করতে পারি অর্থাৎ, অযাচিতভাবে স্টেরয়েড না দেই, লক্ষ্যণবুঝে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারি, যদি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রোগীর পরিচর্যা দেই এবং পরবর্তীতে বাসাতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রোগীর সেবা দেই এবং পরিচ্ছন্ন খাবার দেই সেক্ষেত্রে এই ব্ল্যাক ফাংগাস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, রোগটা নিয়ে খুব বেশি ভয় পাওয়ার কিছু নাই, কিন্তু হয়ে গেলে তো সিরিয়াস। খুব বেশি যে হয় তাও না, লাখে একজনের হয়।

ভারতে ব্যাপক সংক্রমণের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতে প্রায় ১২ হাজার লোক আক্রান্ত হয়ে গেছে। চার-পাঁচশ লোক মারা গেছে। একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে কিন্তু এই রোগে ৫০ শতাংশের মতো রোগী মারা যান। এই রোগ কম হয় সেটা যেমন সত্যি, হয়ে গেলে সিরিয়াস অবস্থা হয় সেটাও সত্যি।

তিনি বলেন, মিডিয়াতে ব্ল্যাক ফাংগাস নিয়ে খবরগুলো দেখে মানুষ ভয় কেন পাবে পা? ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। এই সমস্যা আগেও ছিলো। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে এখন আমরা এটা বেশি পাচ্ছি। করোনার কারণে শুধু এই রোগটাই নয়, আরও বেশি কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে ব্ল্যাক ফাংগাসে সংক্রমণের ক্ষেত্রে স্টেরয়েডের কথা অতিরঞ্জন করে বলা হচ্ছে বলে মনে করেন ডাক্তার আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, কোনো রোগীকে বেশি স্টেরয়েড দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। রোগীর যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু দেওয়া হয়। রোগীকে স্টেরয়েড দেওয়ার নতুন কোনো বিষয় নয়, অনেক আগে থেকেই এই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বেশি বলে কোনো কথা নেই, বৈজ্ঞানিকভাবে যে পরিমাণ ডোজ দেওয়ার কথা সেটাই তো দেওয়া হচ্ছে।

স্টেরয়েড নিয়ে বাড়াবাড়ি খবর প্রকাশিত হলে রোগীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীরা এখন চিকিৎসকদের বলছেন, আমাকে যে স্টেরয়েড দেওয়া হচ্ছে তা বেশি হচ্ছে না তো! তার মানে হলো- ডাক্তারদের ওপর তাঁদের আস্থা কমে যাচ্ছে।

ভারতে ব্ল্যাক ফাংগাসের ব্যাপক সংক্রমণের বিষয়ে ডাক্তার আব্দুল্লাহ বলেন, ব্ল্যাক ফাংগাসের সংক্রমণের অন্যতম কারণ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। আমি কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতে চাই না। তবে ভারতে অনেকে গোবর এবং গরুর মূত্র গায়ে মেখেছেন। কুম্ভমেলার সময় এক জায়গায় লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ গোসল করেছেন। পানি কালো কুচকুচে হয়ে গেছে, তারপরেও সেখানে গোসল করেছেন।

ব্ল্যাক ফাংগাস থেকে রক্ষা পেতে সর্বপ্রথম পরিচ্ছন্নতার দিতে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

করোনার সর্বশেষ খবর

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৮১৫,২৮২
সুস্থ
৭৫৫,৩০২
মৃত্যু
১২,৯১৩
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৭৫,১৪০,২৩৮
সুস্থ
১১৩,৩১৩,৪৩৫
মৃত্যু
৩,৭৮৪,৯২৭
%d bloggers like this: