শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
লঙ্কানদের দুর্দান্ত জয় করোনায় মুখে খাওয়া ওষুধের অনুমোদন দিল যুক্তরাজ্য অনিয়ম হলে ভোট বন্ধ, প্রার্থিতা বাতিল: সিইসি বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে সরকার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১৫৭ জন হাসপাতালে ভর্তি ২০২২ সালে সাধারণ রোগে পরিণত হবে করোনা করোনায় আরো ৭ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৭ লজ্জার হারে বিশ্বকাপ শেষ করলো বাংলাদেশ ফের ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ পুরস্কারে মনোনীত সাকিব দুর্দান্ত পাকিস্তান, তবুও তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে শঙ্কা জবাবদিহিতা নেই বলেই তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার: ফখরুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তি বন্ধে হাইকোর্টের পরামর্শ ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম বেড়ে ১৩১৩ টাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নৌবাহিনীকে আরও দক্ষ হতে হবে : রাষ্ট্রপতি তারেক রহমানের দেশে আসার সৎ সাহস নেই : সেতুমন্ত্রী এক হাজারেরও বেশি পারমাণবিক বোমা বানাবে চীন: পেন্টাগন দেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩২৭ ডলার রাষ্ট্রপতি শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার পেল ১৯ প্রতিষ্ঠান জ্বালানি তেলের দাম না কমালে সারাদেশে পণ্য পরিবহন বন্ধ ঘোষণা

ভারত শাসিত কাশ্মীরে সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে

ভারত শাসিত কাশ্মীরে সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে

সম্প্রতি ভারত শাসিত কাশ্মীরে বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনায় ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই অঞ্চলের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা এখন ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

৪০ বছর বয়সী ডায়াবেটিক রোগ বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ বিন্দ্রু এর বাবাকে পাঁচই অক্টোবর তাদের পারিবারিক ওষুধের দোকানেই গুলি করে হত্যা করে স্বাধীনতাকামীরা। সিদ্ধার্থ বিন্দ্রু এর পিতা নিহত মাখন লাল বিন্দ্রু ওই অঞ্চলের একটি বিখ্যাত ওষুধের দোকানের চেইন পরিচালনা করে, যেখানে অনেক জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বিক্রি করতেন।

কাশ্মীরে যে ৮০০র বেশি হিন্দু পরিবার বসবাস করে, যাদের স্থানীয়ভাবে পণ্ডিত বলা হয়ে থাকে, বিন্দ্রু পরিবার তাদের একটি। নব্বইয়ের দশকে ওই এলাকায় সশস্ত্র আন্দোলন শুরু হওয়ার পর যখন হাজার হাজার হিন্দু পরিবার ভারতের অন্যান্য এলাকায় চলে যায়, তখনও তারা এখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগ এনে ভারত থেকে স্বাধীনতা চাওয়া বিদ্রোহী সদস্যরা অনেক সময় এই সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা করে।
এদিকে সোমবার ভারতের সেনাবাহিনী বলছে, সন্দেহভাজন বিদ্রোহীদের গুলিতে ভারত শাসিত কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে তাদের পাঁচ জন সৈন্য নিহত হয়েছে।

যেদিন এমএল বিনদ্রো নিহত হন, সেদিন আরও দুইজন বেসামরিক বাসিন্দাকে হত্যা করা হয়। তাদের একজন বিহার থেকে আসা একজন হিন্দু ফুটপাতের বিক্রেতা, আরেকজন মুসলমান ক্যাব চালক। এর আগে ২ অক্টোবর কাশ্মীরের দুইজন মুসলমানকে একইভাবে হত্যা করা হয়।

এরকম টার্গেটেড হত্যাকাণ্ডে সেখানে ব্যাপকভাবে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কাশ্মীরের সংখ্যালঘু বাসিন্দাদের মধ্যে, যারা এর আগে দিল্লির বিরুদ্ধে দশকব্যাপী সহিংস লড়াইয়ের প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছেন। অনেক হিন্দু পরিবার এখন এই উত্তপ্ত এলাকা ছেড়ে যেতে শুরু করেছেন, যাকে নব্বই দশকের সেই পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকটা তুলনা করা চলে।

এই এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে সরকার যে দাবি করেছে, এসব ঘটনা সেই দাবিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। কাশ্মীরের ওপর ভারত ও পাকিস্তান- উভয় দেশই দাবি করে। যদিও উভয়ের হাতে আংশিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক সবসময়েই উত্তেজনাপূর্ণ। কিন্তু যখন ২০১৯ সালে এই এলাকার বিশেষ স্বায়ত্তশাসন প্রত্যাহার করে নেয়, তখন সেটি আরও তলানিতে চলে যায়।

ওই পদক্ষেপের কারণে কাশ্মীরে কয়েকমাস ধরে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকে এবং পরিচালনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এর মাধ্যমে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতের এই একমাত্র রাজ্যে জনসংখ্যা বিষয়ক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা সকল কর্মীকে হাজির করে পরিচয়পত্র দেখতে চায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্সিপ্যাল এবং একজন শিক্ষককে আলাদা করে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

গত দুই দশকে এরকম আরো অনেক নিহত হওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত ও শিখরা ছিলেন। ২০০০ সালের মার্চ মাসে অজ্ঞাতনামা হামলাকারীরা একটি গ্রামে হামলা করে ৩৫ জন শিখকে হত্যা করে। ২০০৩ সালে পুলওয়ামা জেলায় একটি গ্রামে হামলা করে ২০ জনের বেশি কাশ্মীরি পণ্ডিতকে হত্যা করা হয়েছিল।

গত এক সপ্তাহেই কাশ্মীরে এরকম সাতটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা ঘটছে এমন সময় যখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭০ জন মন্ত্রী কাশ্মীর পরিদর্শন করে গেছেন। সংবিধান থেকে কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধার আর্টিকেল ৩৭০ বাতিল করায় কী সুবিধা হয়েছে সেটা তুলে ধরাই ছিল এই মন্ত্রীদের কাজ।

ওই আর্টিকেলের কারণে এই রাজ্যটি বিশেষ কিছু সুবিধা পেতো। যার ফলে রাজ্যের নিজস্ব সংবিধান ছিল, আলাদা পতাকা এবং নিজস্ব আইন প্রণয়নের ক্ষমতা ছিল।

স্থানীয় রাজনীতিবিদরা বলছেন, আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়, বরং অনেক খারাপ। অনেকে এটাকে নব্বই দশকের অস্থির সময়ের সঙ্গেও তুলনা করছেন।

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলেছেন, ”কাশ্মীরে শান্তি থাকার যে মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে, এসব হত্যাকাণ্ড তারই প্রতিবাদ।”

কাশ্মীরের পুলিশ প্রধান বিজয় কুমার বলেছেন, শুধুমাত্র এই বছরে কমপক্ষে ২৮ জন বেসামরিক নাগরিককে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা হত্যা করেছে। ”এই ২৮ জনের মধ্যে পাঁচ জন হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের, দুইজন অস্থানীয় শ্রমিক,” তিনি বলেছেন।

যদিও নিহতদের বেশিরভাগ মুসলমান, কিন্তু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় উত্তেজনা ও ভীতির বিষয়টিও বেরিয়ে এসেছে।

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক দিলবাগ সিং বলেছেন, ”এটা হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার একটা চেষ্টা। তারা হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। স্থানীয় পুলিশের সূত্রে জানা যাচ্ছে, জামিনে থাকা শত শত সাবেক বিদ্রোহী এবং বিক্ষোভকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।

তবে কাশ্মীরের পণ্ডিতরা বলছেন, তারা এখনো ভয়ের মধ্যে বসবাস করছেন। তাদের অনেকেই এই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন।

“শত শত পণ্ডিত পরিবাররা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে,” ৫০০-এর বেশি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের একটি সংগঠনের প্রধান সঞ্চয় টিকো বিবিসিকে বলেছেন। “কর্তৃপক্ষ আমাকে আমার শ্রীনগরের বাসা থেকে এনে হোটেলে রেখেছে। এরকম ভয়ানক পরিবেশে আমরা কীভাবে বাঁচতে পারি?”

তবে শুধু কাশ্মীরি পণ্ডিতরাই নন, পুরো উপত্যকা জুড়েই ভয় আর অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। ”নব্বইয়ের দশকে যেভাবে পণ্ডিতরা গিয়েছিলেন, তা ছিল একটা দুঃখজনক ব্যাপার। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। সেসব দিন মনে করতেও আমার ভয় লাগে। সেই রকম আর ঘটা উচিত নয়,” বলছেন মোহাম্মদ আসলাম, যিনি ১৯৯১ সালে একটি ক্রসফায়ারের ঘটনায় তার চাচাতো ভাইকে হারিয়েছেন।

তবে কাশ্মীরের সব পণ্ডিত এই এলাকা ছেড়ে যেতে চান না। বিন্দ্রু পরিবার জানিয়েছে, তারা এখানেই থেকে যাবে।মাখনলাল বিন্দ্রুর কন্যা সারদা বিনদ্রো বলছেন, ”আমরা কাশ্মীরের লোক, এখানেই আমাদের জন্ম, আমার পিতার রক্ত আমাদের ধমনিতে বইছে।”

সিদ্ধার্থ বিন্দ্রু এই বিষয়ে একমত। তিনি বলেছেন, তার পিতার শেষকৃত্যে যারা এসেছেন, তাদের ৯০ শতাংশই মুসলমান।”আমি মনে করি না, এই জায়গা ছেড়ে যাওয়ার মতো কোন কারণ আমার আছে। এখানে আমি নিজের লোকজনের মধ্যেই আছি।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

করোনার সর্বশেষ খবর

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১,৫৭৫,৫৭৯
সুস্থ
১,৫৪০,০১৮
মৃত্যু
২৭,৯৭৫
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
২৬০,২৮১,৮৪৭
সুস্থ
মৃত্যু
৫,১৮৫,৭০২
%d bloggers like this: