সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে আরও ২৪১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি দেশে করোনায় শনাক্ত নামল ছয় শতাংশের নিচে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুদকের প্রতি আহ্বান শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারালো আফগানিস্তান ‘স্কুল-কলেজে সংক্রমণের আশংকা নেই’ বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বিএনপি- কাদের ফিনল্যান্ড থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী যে দেশে বেকারত্বের রেকর্ড সর্বনিম্ন ফখরুলসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ২১ নভেম্বর নির্দিষ্ট গোষ্ঠী আমাদের হুমকি দিয়েছিল: ডেভিড হোয়াইট তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রাণ : তথ্যমন্ত্রী সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায় : মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ চাইলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ রাসেল দম্পতির বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আশায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রুডো বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৪৭ লাখ ছাড়ালো অতিরিক্ত কাজে বছরে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়: গবেষণা জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন শাফিন আহমেদ সৌদি প্রবেশে বাংলাদেশের ১৩৭ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবি প্রথমবার মহাকাশ ঘুরে এলেন চার সাধারণ নভোচারী

৯/১১ হামলার পর যেভাবে বদলে যায় আমেরিকান মুসলিমদের জীবন

৯/১১ হামলার পর যেভাবে বদলে যায় আমেরিকান মুসলিমদের জীবন

যে সকালে ৯/১১ হামলা ঘটে, তখন মিশিগানের ডেট্রয়েটে নিজের স্কুলে ওয়ার্ল্ড স্টাডিজ ক্লাসে ছিলেন হাসান শেখ। ওইদিন তাদের একটি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার শিক্ষক পরীক্ষা নেয়া বাদ দিয়ে ক্লাসরুমে থাকা টিভি চালু করে দেন। তখন টিভিতে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস হওয়ার দৃশ্য দেখতে থাকেন হাসান। ওই হামলার ২০ বছর পর হাসান এখন ৩৪ বছরের যুবক।

তখনকার কথা স্মরণ করতে গিয়ে হাসান বলেন, আমরা সবাই হতভম্ব হয়ে দেখছিলাম। আমরা ওই মুহূর্তে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারিনি। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝতে খুব বেশি সময় লাগেনি তার। পাকিস্তানি অভিবাসী মুসলিম পরিবারের সন্তান হাসান বলেন, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরদিনই বুঝতে পারি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম হিসেবে আমার অভিজ্ঞতার আমূল পরিবর্তন ঘটতে চলেছে।

হাসান বলেন, আমি বন্ধু হারাই, বুলিংয়ের শিকার এবং বর্ণবাদী মন্তব্যের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হই। একবার একটি বাস্কেটবল গেমের সময় প্রতিপক্ষ দলের একজন খেলোয়াড় তাকে ‘পাগড়িওয়ালা আরব সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন, ওই মন্তব্য শুনেও কিছুই করেননি রেফারি।

হামলার এক বছর পর ওয়াশিংটন ডিসিতে এক পারিবারিক ট্রিপে যান হাসান। তার মা হিজাব পরে যাওয়ায় এক ব্যক্তি তাকে সন্ত্রাসী সম্বোধন করেন এবং বলেন কেন তিনি ‘মাথায় এটা’ পরেছেন। হাসান বলেন, এমন আরও বহু ঘটনা রয়েছে। তবে শুধু তাদের সঙ্গেই যে এমন ঘটনা ঘটেছে তা নয়। তিনি বলেন, ৯/১১’র পর অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেকগুলো যুদ্ধ শুরু করা হয় এবং অনেক নেতিবাচক প্রভাবও তৈরি হয়।

৯/১১ হামলার তাৎক্ষণিক পরিণতি হয়, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। ২০০০ সালে যেখানে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমরা ২৮টি ঘৃণামূলক অপরাধের শিকার হয়েছিল, সেই সংখ্যাটা ২০০১ সালে হয় ৪৮১। এমন তথ্য দিয়েছে খোদ এফবিআই। তারা বলছে, ২০১৯ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম বিরোধী অপরাধের পরিমাণ খুব একটা কমেনি। ওই বছর ২১৯টি এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক নাগরিক অধিকার গ্রুপ মুসলিম অ্যাডভোকেটসের একজন পলিসি কনসালটেন্ট সুমাইয়া ওয়াহিদ বলেন, ৯/১১’র পর ঘৃণা এবং বৈষম্য বহু গুণে বেড়ে যায়। হঠাৎ করে মার্কিন মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবন ব্যাপকভাবে সবার আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং পুরো কমিউনিটি মার্কিন সমাজের তীব্র নজরদারির মুখে পড়ে, যা এর আগে কখনও হয়নি।

নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার এবং পেন্টাগনে হামলার পর মার্কিন সরকার দ্রুত বিভিন্ন সরকারি অফিস এবং বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করে। এরপর মাত্র ৪৫ দিন পর কংগ্রেস প্যাটট্রিয়ট অ্যাক্ট পাস করে। এর ফলে সন্ত্রাসবাদে জড়িত সন্দেহ সব মার্কিনির অনলাইন এবং ফোনালাপ পর্যবেক্ষণসহ তাদের কর্মকাণ্ড নজরদারি করার অনুমতি দেয়া হয় দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

যদিও ২০২০ সালের মার্চ মাসে এই আইনের অনেকগুলো ধারা স্থগিত হয়ে গেছে, তবে নাগরিক অধিকার গ্রুপগুলো বলছে, এই আইন আমেরিকান মুসলিমদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে রেখে গেছে। কেননা তারা এই আইনের কারণে বৈষম্যপূর্ণভাবে টার্গেট হয়েছিলেন। অধিকার গ্রুপগুলো এই আইনের বিরুদ্ধে আদালতেও যায়। সেখানে তারা বলে, এর ফলে আমেরিকানদের নাগরিক এবং সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

২০০৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন তথাকথিত ‘ওয়াচলিস্ট’ তৈরি করে, যা টেরোরিস্ট স্ক্রিনিং ডাটাবেজ (টিএসডিবি) নামেও পরিচিত। এফবিআই জানিয়েছে, ২০১৬ সালে ১০ লাখ মানুষের তালিকা থেকে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দার নাম ওই ডাটাবেজে যুক্ত করা হয়। এরপর আমেরিকার মুসলিম নাগরিক অধিকার গ্রুপগুলো মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

অধিকার গ্রুপগুলো বলছে, এটি অসাংবিধানিক। মার্চ মাসে আপিল আদালত তাদের বিরুদ্ধে রায় দেয়। আর টিএসডিবি’কে নিজস্ব গতিতে চালানোর অনুমতিও দেয়া হয়। দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্সের (সিএআইআর) সরকার বিষয়ক বিভাগের পরিচালক রবার্ট ম্যাককো বলেছেন, ৯/১১’র পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সব মুসলিমকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।-আল জাজিরা থেকে সংক্ষিপ্তভাবে অনূদিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

করোনার সর্বশেষ খবর

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১,৫৪২,৬৮৩
সুস্থ
১,৫০১,৫৪১
মৃত্যু
২৭,২২৫
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
২২৭,৮৬৫,৮৭৪
সুস্থ
মৃত্যু
৪,৬৮২,৯০৮
%d bloggers like this: